26 C
Bangladesh
Monday, November 29, 2021
Google search engine

সর্বশেষ পোস্ট

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকবে

ডেস্ক রিপোর্ট দৃষ্টি প্রতিদিন: জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রােহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন রােহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। এটা বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সোমবার ৪ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্মেলনে যোগ দেন সাংবাদিকরা।

সরকারপ্রধান বলেন ২৪ সেপ্টেম্বর আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য রাখি। প্রতিবারের মতো এবারও আমি বাংলায় বক্তব্য রাখি। বক্তব্যে আমি কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তােলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারােপ করি ।

টিকা বৈষম্য দূরীকরণে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন রােহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে আমি আবারও বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেই যে, রােহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে উল্লেখ করে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়ার অনুরােধ জানাই।

সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২২ সেপ্টেম্বর ইউরােপিয়ান ইউনিয়ন যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ,সৌদি আরব ,ওআইসি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, গাম্বিয়া এবং বাংলাদেশের যৌথ আয়ােজনে রােহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ওই সভায় আমি মূল বক্তব্য দেই।

এ অনুষ্ঠানে তুরস্ক, গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও আসিয়ানের বিশেষ দূত বক্তব্য দেন। রােহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে উল্লেখ করে আমি কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানাই।

এর মধ্যে রয়েছে-
ক. প্রত্যাবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ লক্ষ্যে সব কার্যক্রম পরিচালিত করা;
খ. মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রােহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা:
গ. রােহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলাের কার্যকর ভূমিকা পালন:
ঘ. জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযােগীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন উপযােগী পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন:
৬. রােহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও জাতিগত নিধনের বিচার নিশ্চিত করতে আইসিজে ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলােতে চলমান প্রক্রিয়ায় সহযােগিতা করা।

এবারের অধিবেশনে রােহিঙ্গা সমস্যা ও এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলােচিত হয়, যা রােহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশা করি যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যের পর এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে একটি গোষ্ঠীর অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব কিছুই যেন একটি ব্যবসা। কেউ কেউ মনে হয় সুবিধা পাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার জন্য এটা এক ধরনের ব্যবসা। এরা (রোহিঙ্গারা) না থাকলে তাদের চাকরি যাবে।

লেটেস্ট পোষ্ট

ফেয়ার & লেডি

spot_img

অবশ্যই পড়ুন

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.