30 C
Bangladesh
Sunday, October 17, 2021
Google search engine

সর্বশেষ পোস্ট

শাশুনিতে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ কর্মসূচি পালিত

এস,এম,হাবিবুল হাসান : সাতক্ষীরার আশাশুনির দরগাতলা গ্রামে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে হাসপাতালে মারা যান হাবিবুর রহমানের স্ত্রী গৃহবধু সাদিয়া সুলতানা (২২)। ভূমিষ্ঠ নবজাতককে নিয়ে পরিবার যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত মৃত সাদিয়াকে দাফন করা নিয়ে।ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর থেকে তাদের ঘরে হাটু পানি।ঘরের মধ্যে মাঁচা করে বসবাস করছে সাদিয়ার পরিবার। চারিদিকে অথৈই পানি আর পানি। তাই দূরের গ্রামে উচুস্থানে দাফন করা হয় সাদিয়া সুলতানার মরদেহ।


একই উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মাহমুদুল হাসান (৩৫)। গেল জুলাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসা হয় দাফনের জন্য। পূর্ণিমার ভরা জোয়ারে চারিদিকে থই থই পানি। মাটির উপর কোন রকম পলিথিন বিছিয়ে ইট গেথে সমাধি তৈরি করে দাফন করা হয় মৃতদেহ। কয়েকদিন পর লাশ পচে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পানি দূষিত হয়ে যায়। এমন চিত্র বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে উপকূলীয় বানভাসী জনপদে। মুসলমানদের চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে সামাধি করে দাফন করা হচ্ছে সেখানে মৃত্যুবরণকারীদের। তাছাড়া অন্যান্য ধর্মালম্বীদেরকে নিয়ে পড়েছে মহাবিপদে।

দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় ধরে সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লবণ পানিতে ডুবে আছে। জলাবদ্ধতা এবং করোনা এই অঞ্চলের মানুষকে মহাবিপাকে ফেলেছে। মানুষের জীবনযাত্রা জোয়ার-ভাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতংকে স্থানীয়দের তটস্থ থাকতে হয় সবসময়। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বিচ্ছিন্ন। চিকিৎসা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানিসহ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত এই উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি ও উপকূল সুরক্ষার দাবিতে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

পরিবেশবাদী আন্দোলন ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ এবং ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর আহ্বানে এই ধর্মঘটে উপকূলের ভুক্তভোগী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘর-দোর, জাগা-জমি, সব শেষ। ভাসি-বুড়ি আশ্রয় নিছি একটা দোকান ঘরে। আমরা ভাটির সময় জাগি, আবার জোয়ার হলি ডুবি। এভাবে আর কত দিন থাকপো। বউ-বাচ্চানে আর পাত্তিছিনি। এবার ভাবিছি চুলি যাবো নড়াইলি। বাপ দাদার ভিটি-মাটি সব গেছে। দু’বছর হতি যাচ্ছে ডুবি মরতিছি। বাঁধ হবার নাম নেই। বাঁধ টাধ হলি আবার আসব।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক এস এম শাহিন আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে আজ উপকূল ক্ষতবিক্ষত। মানুষের বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ। মানুষ উপকূল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আগামী জলবায়ু সম্মেলনে আমরা কথার বাস্তবায়ন দেখতে চাই, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয় গোটা সাতক্ষীরা উপকূল। পানিবন্দি হয়ে পড়ে উপকূলীয় এলাকার ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ঘর-বাড়ি ধসে পড়ে দুই হাজারেরও বেশি। এখনো ডুবে আছে শতাধিক ঘর-বাড়ি। কাজ না থাকায় সেখানকার লোকজন বর্তমানে বেকার। উপকূলীয় এলাকায় বাস্তুচ্যুত হয়ে আছে হাজারো পরিবার। বেড়িবাঁধের রাস্তার ওপর খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

লেটেস্ট পোষ্ট

ফেয়ার & লেডি

spot_img

অবশ্যই পড়ুন

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.