28 C
Bangladesh
Sunday, September 19, 2021
Google search engine

সর্বশেষ পোস্ট

বাল্য বিবাহ রোধে অনলাইন ভিত্তিক জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ে বাধ্যতা মূলক করা জরুরী

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স হলেই একজন মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স্ক বলে বিবেচনা করা হয়। আর প্রাপ্ত বয়স্ক তথা ১৮ বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই যদি কোন মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সে বিয়েকে বাল্য বিবাহ বলে গণ্য করা হয়।

যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। শহুরে মানুষের মত গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা সচেতন হতে না পারায় সবচেয়ে বেশী বাল্যবিবাহ গ্রামাঞ্চলেই হয়ে থাকে। বিশেষ করে দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চল ভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবার কারণে বাল্য বিবাহের বিশেষ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কানণে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বে বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) যিনি বিবাহ সম্পন্ন করিয়ে থাকেন তিনি ছেলে এবং মেয়ের বয়স যাচাই বাছাইয়ের জন্য জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ডের উপর গুরুত্ব দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করে থাকেন।

সেক্ষেত্রে নিকাহ রেজিস্ট্রার তথা কাজীরা মেয়েদের জন্ম নিবন্ধনে উল্লেখিত বয়স শুধু মাত্র চোখে দেখেই কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই নিকাহ রেজিস্ট্রারে বর্ণিত বয়সটি লিপিবদ্ধ করণের মধ্য দিয়ে বিবাহ কার্য সম্পন্ন করে থাকেন। এতে করে এক শ্রেণীর অভিভাবকরা তাদের কণ্যা সন্তানদের প্রাপ্ত বয়স্ক তথা ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে দিতে স্বক্ষম হচ্ছেন। অনেক অভিভাবকরা ভালো পাত্র পেলে জন্ম নিবন্ধনের প্রকৃত বয়স গোপন করে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ভুয়া বয়স বসিয়ে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই তাদের মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন। অনলাইনে সেসব জন্ম নিবন্ধন যাচাই বাছাই না হওয়ার কারণে দিন দিন বাল্য বিবাহের হাড় বেড়েই চলেছে। অথচ মায়েরা তাদের মেয়েদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দিয়ে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

বাল্য বিবাহ দেওয়ার ফলে প্রথমত তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ মা ও তাঁদের সন্তানদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে অপ্রস্তুত মায়ের সন্তান জন্মদানের সময় ঝুঁকি দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ জনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়।একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীদের তুলনায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মৃত্যুঝুঁকি অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হয়ে থাকে। বাল্য বিবাহ রোধে অনলাইন ভিত্তিক জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ে বাধ্যতা মূলক করা জরুরী বলে সুশীল সমাজের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন।

এছাড়া সরকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজীরা যাতে বিয়ের সময় বর কনে উভয়ের বয়স অনলাইনে যাচাই বাছাইয়ের পর সম্পন্ন করতে পারে সে দিকে সরকার থেকে বাধ্যতা মূলক করার পাশাপাশি জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে নির্দিষ্ট এ্যাপের মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইসের জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ব্যপারে বেশ কয়েকজন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বিয়ে সম্পন্ন করার সময় কেবল মাত্র বর ও কনের অভিভাবকদের উপস্থাপন মতে জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয় পত্রে উল্লেখিত বয়স নিকাহ রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেন।

এ ক্ষেত্রে তারা বর ও কনেদের বিয়ের বয়স হয়েছে কিনা তা জন্ম নিবন্ধন ও পরিচয় পত্রে ঠিক থাকলে বিয়ে সম্পন্ন করেন। যাচাই বাছাই ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে নিকাহ রেজিস্ট্রাররাও বেকায়দায় পরেন।

লেটেস্ট পোষ্ট

ফেয়ার & লেডি

spot_img

অবশ্যই পড়ুন

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.