22 C
Bangladesh
Monday, November 29, 2021
Google search engine

সর্বশেষ পোস্ট

বগুড়ার শেরপুরে সারের অতিরিক্ত দাম সংকটে বিপাকে আলু চাষিরা


স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আমইন গ্রামের হারেজ আলী আকন্দ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। এ বছর ১৫০ বিঘা জমিতে আলু লাগানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

জমি তৈরি শেষ। স্থানীয় এক ডিলারকে ১৫ দিন আগে সরকারি দামের চেয়ে অধিক টাকা পরিশোধ করেছেন সার ক্রয়ের জন্য।

এখন প্রহর গুনছেন সারের জন্য। কিন্তু সার না পাওয়ায় প্রতিদিন শ্রমিক বাবদ তাঁর লোকসান হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু সারের অভাবে মাঠ যেতে পারছেন না কৃষকেরা। কোনো সংকট নেই ও সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি হচ্ছে—কৃষি অফিস এমনটি দাবি করলেও খোদ খুচরা বিক্রেতারাই স্বীকার করছেন বেশি দামে সার বিক্রির কথা।  

একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানিয়েছেন, ডিলাররা তাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দাম রাখছেন। আর তারা বস্তা প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কিংবা কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। অন্যদিকে কৃষকেরা বলছেন, প্রকারভেদে বস্তায় এবার তাদের সারের জন্য ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে। 


বেলঘরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি স্থানীয় চৌমহুনী বাজার থেকে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ৮৫০ টাকা, এমওপি ১ হাজার ১৭০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩০০ টাকা ও ডিএপি ৯০০ টাকা করে কিনেছেন। সরকারি দামের সঙ্গে পার্থক্যের হিসেব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ এসব খবর আমরা জানি না।’ 


কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৮০০ হেক্টর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ জন বিসিআইসি, ২০ জন বিএডিসি অনুমোদিত এবং উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োগকৃত ১০টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় মোট ২৫ জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন।

এসব বিক্রেতার খুচরা পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ মূল্য বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৮০০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকা, ডিএপি ৮০০ টাকা ও এমওপি ৭৫০ টাকা রাখার কথা। তবে ডিলারদের কাছ থেকে ইউরিয়া ৮৩০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ৮৩০ টাকা ও এমওপি ৯৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন মেলা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আহমদ আলী। এ জন্য প্রতি বস্তায় ২০ টাকা লাভে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান। 

এ দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের ডিলারদের সার মজুত ও বিক্রয় কেন্দ্র থাকার নিয়মও জানেন না কোনো কৃষক। কারণ সব ডিলারই ব্যবসা এখন শহরে। এ বিষয়ে কুসুম্বী ইউনিয়নের কাশিপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে কোনো ডিলার আছে কি না জানি না। বাজারের দোকান থেকেই সার কিনি।


তবে অধিক দামেও সার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক কৃষক। আলু লাগানোর সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সারের অভাবে মাঠে যেতে পারছেন না বলে জানালেন কৃষক খয়বর আলী মণ্ডল। তাঁর দাবি সারের পাশাপাশি আলুর বীজও বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। 


বাজার নজরদারি ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। অফিস থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয় না। অফিসে গিয়ে সার বীজের বিষয়ে কোনো পরামর্শ চাইলে স্থানীয় দোকানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান কাশিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম। 


এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের ডিলার পর্যায়ে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করছি। কোনো অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লেটেস্ট পোষ্ট

ফেয়ার & লেডি

spot_img

অবশ্যই পড়ুন

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.